
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগে ভারতের লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম পরমজিৎ সিং। খবর এনডিটিভি।
ঘটনাটি সামনে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক বিএসসি শিক্ষার্থীর জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে। সেখানে অভিযুক্ত অধ্যাপককে ছাত্রীকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘ডার্লিং, তোমার জন্য দুটি প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছি। তুমি কবে দেখা করতে আসবে?’
জবাবে ছাত্রী বলেন, তিনি ইতোমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং প্রশ্নপত্রের প্রয়োজন নেই। এরপরও অধ্যাপক তাকে পরীক্ষার আগে সাত দিনের মধ্যে দেখা করতে চাপ দিতে থাকেন।
অডিওর একপর্যায়ে কল শেষ হওয়ার পর ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, অধ্যাপক তাকে আবারও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে ডেকে পাঠাচ্ছেন।
শিক্ষার্থী দুটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ অভিযুক্ত অধ্যাপককে হেফাজতে নিয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতির’ কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনটির লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জয় শ্রীবাস্তব অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ ও উত্তর প্রদেশ সরকারকে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও যৌন হয়রানিসংক্রান্ত কঠোর আইনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। উপাচার্য জেপি সাইনি অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার প্রক্টরের কার্যালয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক, অভিযোগকারী ছাত্রী এবং আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে ভারতের সাম্প্রতিক ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে। ওই ঘটনার তদন্ত ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) হাতে নিয়েছে।