• আজ- শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী-ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার কালিগঞ্জে শিশু নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে মামলা: অভিযুক্ত আটক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালিগঞ্জের এক ব্যক্তির মৃত্যু আশাশুনির মহেশ্বরকাটি মৎস্য সেটে ব্যবসায়ীর টাকা লোপাট দেবহাটা ও আশাশুনির শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার জাহানাবাজে ঘোড়দৌড় দেখতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি ট্রান্সফরমার চুরির ১৫ মাস পরও বিদ্যুৎহীন স্কুল দাবদাহে কষ্টে শিক্ষার্থীরা: জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ, উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো-দ. আফ্রিকা

সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে চাকুরিচ্যুত দুই শিক্ষক ভ্রাতা চাকুরি ফিরে পেতে মরিয়া

রিপোর্টার: / ১২২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে চাকুরিচ্যুত দুই শিক্ষক ভ্রাতা চাকুরি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনৈতিক নেতাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিচ্ছেন তারা। জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের পুনরায় বহাল করা হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত ললিত মোহন সাহার দুই পুত্র বীরেন্দ্র নাথ সাহা ও প্রতাপ কুমার সাহা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০০৮ ও ২০০৯ সালের নিয়োগে যথাক্রমে ২০০৯ ও ২০১০ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। এছাড়াও তাদের ভাইপো আদিত্য সাহার পূত্র সুমন সাহা ২০১২ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। তাদের পিতা মৃত ললিত মোহন সাহার মুক্তিযোদ্ধা না হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদ তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা” ও ”মুক্তিযোদ্ধার পূত্রের পূত্র কোটা” সুবিধা নিয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তারা।

চাকুরী প্রাপ্তির পর জালিয়াতি কে বৈধতায় রূপদানের লক্ষ্যে তারা কৌশলে মৃত ললিত মোহন সাহাকে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে অনলাইনে আবেদন করে এবং তৎকালীন মন্ত্রী উক্ত আবেদন উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছায়ের জন্য নির্দেশনা দেন। উপজেলা পর্যায়ে যাচাই বাছাই কালে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ধানদিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তবিবুর রহমানের পূত্র আবু সাঈদ মোহাম্মদ ইদ্রিস পরিচালক, দূদক; মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ করেন। সে মোতাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বীরেন্দ্র নাথ সাহা ও প্রতাপ কুমার সাহার বিরূদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে এবং ত্রুটিপূর্ণ ও দায়সারা গোছের তদন্ত কার্যক্রম গ্রহন করে তারদকে গত ১৯/০৭/২০২৩ তারিখে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে। চাকুরী থেকে বরখাস্তের পর উক্ত আদেশের বিরূদ্ধে উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা বরাবর আপিল আবেদন করলে তা না-মঞ্জুর হলে প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল, খুলনা আদালতে উক্ত আদেশের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করলে গত ২৪/০৯/২০২৪ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাতক্ষীরা প্রদত্ত গত ১৯/০৭/২০২৩ তারিখে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করণের আদেশ বাতিলের আদেশ প্রদান করে। বর্তমানে তারা বরখাস্ত অবস্থায় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তির মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, আইনের ফাঁক ফোকড়কে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আদেশকে ব্যবহার করে পুনরায় চাকুরিতে বহালের পায়তারা চালাচ্ছেন তারা। আর এ কারনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বিভাগীয় মামলা তদন্তে জানা গেছে, মৃত ললিত মোহন সাহার নামে প্রস্তত ও চাকুরী গ্রহণকালে দাখিলকৃত ১৪৮৬০ নং মুক্তিযোদ্ধা সনদ সঠিক নয় এবং তিনি সর্বশেষ গেজেটসহ কোন গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভূক্ত নন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, মৃত ললিত মোহন সাহার অপর একপূত্র যোগেশ সাহা ও খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন একইভাবে কোটা সুবিধা নিয়ে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রতাপ কুমার সাহা অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার না করেই বলেন, গত আড়াই বছর পূর্বে আমাদের চাকুরি চলে গেছে। সুতরাং এটি নিয়ে কথা বলার আর প্রয়োজন নেই।
এব্যাপারে জানার জন্য তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন জানান, যেহেতু শিক্ষকরা আদালতে মামলার রায় পেয়েছে। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি। সেখান থেকে কোন নির্দেশনা পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ