
* নাম সর্বস্ব ভূঁইফোড় পত্রিকার কার্ড পুঁজি
* ৫ম- ৮ম শ্রেণী এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা
* অতিষ্ঠ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নামসর্বস্ব ভূঁইফোড় পত্রিকার কার্ড ঝুঁলিয়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে কিছু হলুদ সাংবাদিকরা। এসব হলুূদ সাংবাদিকদের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে জেলাজুড়ে ক্ষুদ্ধ মূল ধারার সাংবাদিকরা।
যাদের অধিকাংশই এসএসসি’র গন্ডি পেরুতে পারিনি। একটা প্রতিবেদন লেখার সক্ষমতা নেই। এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম -৮ম শ্রেণী পর্যন্ত। কিছু টাকার বিনিময়ে ভুঁইফোড় পত্রিকার কার্ড ম্যানেজ করে ছুটে চলছে বিভিন্ন সরকারি অফিস আদালত, নদী, খাল, বিল, বালু উত্তোলন ও ইট ভাটায়। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে টাকা চায় বিভিন্ন সমস্যার কথা উপস্থাপন করে। টাকা না পেলে হুমকিও দেয়। হলুদ সাংবাদিকরা অধিকাংশই একসময় ছিল, কেউ বাসের হেলপার, কেউ বেকারী কারখানার শ্রমিক , কেউ হাতুড়ি ডাক্তার, কেউ সাইকেল মিস্ত্রী, আবার কেউ ডিম বিক্রেতা।
এসব হলুদ সাংবাদিকরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তি ফেসবুক আইডিতে লাইভ করে ৫০০-২০০০ টাকা নিয়ে থাকে। গ্রামের সহজ সরল মানুষ সাংবাদিক নির্ণয় না করতে পেরে তাদের টাকা দিয়ে থাকে। অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশি টাকা চাওয়ায় বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়।
এসব হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে মূল ধারার সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে।
বৈশাখী টিলিভিশনের সাংবাদিক শামীম পারভেজ বলেন, সাতক্ষীরায় একদল হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করি, অনেক সময় সাংবাদিক পরিচয় দিতে বিব্রতবোধ করি। এদের জ্বালায় আমরা আজ অতিষ্ঠ। একটারও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই একখান ভূঁইফোড় পত্রিকার কার্ড ম্যানেজ করে গলায় কার্ড ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন সময় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণা করা। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কলংকমুক্ত করা।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ টেলিভিশনের সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের দাপোটে আমরা দিন দিন কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছি। এরা অধিকাংশ অশিক্ষিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদাদাবি করছি।আমি ২৫ বছর সাংবাদিকতা এখন সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিতে মাঝে মাঝে লজ্জা হয়। সরকারের উচিত অনিবন্ধিত ভূঁইফোড় পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া। আর সাংবাদিকদের ৮ম বোর্ড মজুরি বাস্তবায়ন করা।
ভোরের কাগজ ও এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক মশিউর রহমান ফিরোজ বলেন, এই হলুদগুলো অচিরে ই চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এদের জন্য অফিস আদালত বিভিন্ন দপ্তর অতিষ্ঠ। এরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার জন্য ফোন দিয়ে বিরক্ত করে শুনেছি। আবার টাকা না দিলে হুমকি দেয়। এসব অশিক্ষিত হলুদের তালিকা করে জেলা তথা অফিসের মাধ্যমে জনমনে উত্থাপিত করা হোক।
জনবাণী পত্রিকার সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের অতিষ্ঠে সাংবাদিক বলতে লজ্জা পায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া লেখা শেষ করে শখের বসে সাংবাদিকতা করি। অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করছি। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকদের জন্য আমরা মাঠে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে বিপাকে পড়ি। বিষয়টার একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটকে নজরদারি বাড়াতে হবে।
সমকালের সাংবাদিক কিশোর কুমার বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের অতিষ্ঠে আজ সাতক্ষীরা মানুষ সরকারি অফিস বিব্রত বোধ করছে। এরা মূর্খ লেখাপড়া জানে না একসময় ছিল বাসের হেলপার, ট্রলি চালক, ডিম বিক্রেতা, বেকারী শ্রমিক তারা এখন নামধারী সাংবাদিক। এসকল হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে এই মহান পেশা সাতক্ষীরায় দুর্নাম ছড়াবে। সমাজ হুমকির মুখে পড়বে।
মানবজমিনের সাংবাদিক বিপ্লব হোসেন বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন আমরা হতাশ অর্নাস মাষ্টার্স শেষ করে জাতীয় দৈনিক সাংবাদিকতা করি। চেষ্টা করি সত্য বস্তু নিষ্ঠ সাংবাদিকতা কিন্তু একদল বাসের হেলপার, ডিম বিক্রেতা,বেকারী কারখানা সাংবাদিক, যারা ৫ম-৮ম শ্রেণী পাস। এরা ভূঁইফোড় পত্রিকার কার্ড নিয়ে জেলাজুড়ে বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা, ভূমি এলজিআইডি,জনস্বাস্থ্য অফিসে গিয়ে উৎপাতের নজির আছে। সময় অসময়ে টাকা চাই এরা পরিচয় দেওয়ার মত সংবাদিক না। এদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক হোসেন আলী বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিকতা করা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। আমার এখন সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা করে। বিষয়টি আমলে নিয়ে দেখা উচিত। দ্রত একটি পদক্ষেপ গ্রহণে সাতক্ষীরায় কলংক মুক্ত করা হোক।
নাগরিক নেতা আমিনুর রহমান বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য কমানো উচিত। হলুদ সাংবাদিকতা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে হলুদ সাংবাদিকদের তালিকা করে চিহ্নিত করে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসকের নজরদারি করা উচিত।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তারক বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের জন্য আমরা বিপাকে। সময় নেই শুধু ফোন দিয়ে টাকা চাই। ঠিকমত কর্মস্থলে কাজ করতে পারি না। নাম সর্বস্ব পত্রিকা যা কেউ পড়ে না, নাম শুনে নাই তারা পরিচয় দিয়ে টাকা চায়। আবার টাকা না দিলে ফেসবুকে স্ট্যার্টাস দেয় নিউজের ভয় দেখায়।
এব্যাপারে জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম বলেন , সাতক্ষীরায় হলুদ সাংবাদিকদের বিষয়ে আমি তেমন জানি না। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টা দেখব।