• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

সৌদি আরবে গোপনে বেলি ড্যান্স শিখছেন নারীরা

রিপোর্টার: / ১২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রিয়াদের এক ফিটনেস স্টুডিওতে আরবি সুরের তালে বেলি ড্যান্স শিখছেন ডজনখানেক নারী। এমন নাচ শেখা এখনো সৌদি সমাজে অনেকটা গোপন আনন্দের বিষয়।

সম্প্রতি ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

অংশগ্রহণকারীদের কেউই আসল নাম প্রকাশ বা মুখ দেখাতে রাজি নন। কারণ, প্রাচীন এই নৃত্যরীতি ঘিরে এখনো রয়েছে বাধা।

আরব সমাজে বেলি ড্যান্স বহু যুগ ধরে শিল্প, বিনোদন ও চলচ্চিত্রের অংশ। সম্প্রতি এটি বিশ্বজুড়ে নারীদের কাছে শরীরচর্চা ও আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে এমনকি নারীদের জন্য আবদ্ধ কক্ষও এখনো সমাজের চোখে নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়।

এক অংশগ্রহণকারী বলেন, আমরা রক্ষণশীল সমাজে বাস করি। বেলি ড্যান্সকে যৌন আবেদনময় হিসেবে দেখা হয়। কোনো পরিবার বা স্বামীই চান না, অন্য পুরুষেরা তাদের নারীকে এভাবে দেখুক।

এএফপিকে রিয়াদের এই নাচের ক্লাসে প্রবেশের অনুমতি পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিবারের প্রতিক্রিয়ার ভয়েই তারা পরিচয় গোপন রাখেন। এক নারী বলেন, আমি পরিবারের কাউকে বলব না, কারণ তাদের মর্যাদার প্রতি সম্মান রাখছি।

সৌদি সমাজে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল হয়েছে। নারীরা এখন গাড়ি চালাতে পারেন, মাথার আবরণ ছাড়াও বাইরে যেতে পারেন। কিন্তু সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতা এখনো গভীরভাবে প্রোথিত।

অংশগ্রহণকারীদের প্রধান উদ্বেগ হলো, তাদের নাচের ছবি বা ভিডিও বাইরে চলে যাওয়া। এজন্য ফোন ব্যবহারে কঠোর নজরদারি রাখা হয়। এক নারী বলেন, কেউ আমাকে রেকর্ড করে ক্ষতি করতে পারেন, এই ভয় সব সময় থাকে।

রিয়াদের এই ক্লাসে দুজন প্রশিক্ষক কাজ করেন। তারা নিজেদের ‘ড্যান্সার’ নয়, বরং ‘কোচ’ বলে পরিচয় দেন। তাদের একজন ওনি নাম ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, আমরা নাচকে খেলাধুলায় রূপ দিয়েছি। সৌদিরা আনন্দ করতে ভালোবাসেন, জীবন উপভোগ করতে চান। তবে সবসময় ধর্ম ও শালীনতার সীমার মধ্যে থেকে।

আরেক প্রশিক্ষক রোরো বলেন, এটি অনেকটা নারীদের পার্টির মতো পরিবেশ। আমরা সবাই আনন্দ করি, মানসিক চাপ দূর হয়।

রিয়াদজুড়ে এখন নারীকেন্দ্রিক যোগব্যায়াম, বক্সিং ও বেলি ড্যান্স স্টুডিও গড়ে উঠছে। যা একসময় কল্পনাতীত ছিল। তবে পুরুষ ও নারীর আলাদা আলাদা ক্লাসের নিয়ম এখনো কঠোরভাবে মানা হয়।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীততত্ত্ব অধ্যাপক লিসা উরকেভিচ বলেন, বেলি ড্যান্স আরব উপদ্বীপের বাইরের উৎপত্তি হওয়ায় এটি স্থানীয় নাচের চেয়ে অনেক বেশি উদ্দীপক। তাই অনেক পরিবার মেয়েদের এই নাচে অংশ নিতে দেয় না।

তবু, সৌদি সমাজে মতের বৈচিত্র্য বাড়ছে। ওনি বলেন, তাদের ক্লাস কেবল ফিটনেস নয়, নারীদের আত্মবিশ্বাস ও শক্তি জাগিয়ে তুলতে সহায়ক। নাচ আমাদের একত্র করে, আমাদের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ