• আজ- শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
রাজধানীতে ১৫ মাসে ৪৭৯টি হত্যা, ১৯৩টি রাজনৈতিক কারণে শিক্ষিকাকে জুতাপেটার ঘটনায় সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি, অস্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তারকা নাহিদ রানা বিশ্বকাপে খেলতে ইরানকে শর্ত দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ ও ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল সিএনএন নৌ অবরোধের মধ্যেই হরমুজে জাহাজ জব্দ করল ইরান ন্যাটোর এক সদস্যকে বহিষ্কারের প্রস্তাব পেন্টাগনের সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি বাবলু, বাবু সম্পাদক আশাশুনিতে বায়ার কোম্পানির ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহারে ৮০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষী

হরমুজ ও ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল সিএনএন

রিপোর্টার: / ১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় ‘ডায়নামিক টার্গেটিং’ কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা—বিশেষ করে ছোট আক্রমণাত্মক নৌযান, মাইন পাতা জাহাজ এবং অন্যান্য অসমমিত অস্ত্র—লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এসব সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ন্ত্রণে এনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া মার্কিন হামলা বর্তমানে যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করা হলেও অধিকাংশ বোমাবর্ষণ হয়েছে প্রণালি থেকে দূরের স্থাপনায়, যাতে ইরানের ভেতরে গভীরভাবে আঘাত হানা যায়। তবে নতুন পরিকল্পনায় কৌশলগত জলপথ ঘিরে আরও নিবিড় ও কেন্দ্রীভূত হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কাছে বিপুলসংখ্যক ছোট নৌযান রয়েছে, যেগুলো থেকে জাহাজে হামলা চালানো সম্ভব। এসব কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে একাধিক সূত্রের মতে, শুধু সামরিক হামলা চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই জলপথ খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এক সূত্রের ভাষায়, ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কিংবা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচল শুরু করা কতটা নিরাপদ হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।’

পরিকল্পনায় আরও রয়েছে, প্রয়োজনে জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ সৃষ্টি করা। যদিও এমন পদক্ষেপ সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এবং আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে করা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কর্মকর্তা আহমদ বাহিদির নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দেওয়া হচ্ছে এবং সব ধরনের বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ অভিযানের পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় বিভক্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, কঠোরপন্থী ও তুলনামূলক নরমপন্থীদের দ্বন্দ্ব কূটনৈতিক সমাধানকে জটিল করে তুলছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং উৎপাদন স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—যেগুলোর অনেকগুলো আগের হামলায় ধ্বংস হয়নি বা যুদ্ধবিরতির সময় নতুন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং হাজার হাজার একমুখী আক্রমণ ড্রোন এখনো সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের কিছু সামরিক সম্পদ নতুন স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং সমঝোতা না হলে সেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবুও যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্ট নয় এবং প্রয়োজনে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ১৭টি জাহাজ ও  দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া ভারত মহাসাগরে আরও সাতটি জাহাজ অবস্থান করছে। ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্তত ৩৩টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে তেল বহনকারী একটি জাহাজসহ একাধিক জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ