• আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি: শ্যামনগর ইউএনওর পক্ষে দালালি বিবৃতি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সুধিজনদের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করবো: সাংবাদিক জাহিদ হোসাইন সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনজীবীর বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

শ্যামনগরে জেলেদের ৮০ কেজির বরাদ্দে মিলেছে ৩৫ কেজি চাল: ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

রিপোর্টার: / ১৬৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজী হাবিব: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও অনেক জেলেকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩৫ কেজি করে। এমনকি সরকারি ছুটির দিনে ট্যাগ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতেই চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, বরাদ্দের চাল কম আসার কথা বলে একজনের ৮০ কেজি চাল দুইজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত বরাদ্দের তুলনায় প্রত্যেক জেলে প্রায় ৪৫ কেজি করে চাল কম পাচ্ছেন। ৭৬০ জন জেলের ক্ষেত্রে এ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কেজি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে জুন, জুলাই ও আগস্ট- এই তিন মাস সুন্দরবনে পাস-পারমিট বন্ধ থাকায় জেলেদের নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়ে জীবিকা বন্ধ থাকায় সরকার নিবন্ধিত জেলেদের মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ করে।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিবন্ধিত ৭৬০ জন জেলের প্রত্যেকের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে পাস-পারমিট বন্ধের সময়ের বরাদ্দের চাল গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ শুরু হয়।

জেলেদের অভিযোগ, বরাদ্দ অনুযায়ী ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেককে ৩৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। আবুবক্কার, রবিউল ইসলাম, আব্দুর রউফসহ একাধিক জেলে বলেন, ‘আমাদের ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ৩৫ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে চাল কম এসেছে, তাই একজনের চাল দুইজনকে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।’

জেলে আলমগীর অভিযোগ করেন, প্রকৃত জেলেদের অনেকে বরাদ্দের চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে অন্য পেশার মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনদেরও চাল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজল সরদারের বিরুদ্ধেও।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো, ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা মিনা হাবিব বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে চাল বিতরণের জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু শনিবার সরকারি ছুটির দিন এবং আমি অসুস্থ থাকায় উপস্থিত হতে পারিনি। আমি বলে দিয়েছি, কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না হয়। অনিয়ম হলে এর দায় চেয়ারম্যানকে নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলছি।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭৬০ জন বিএলসি ও মৎস্য কার্ডধারী জেলের জন্য জনপ্রতি ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী যে পরিমাণ চাল পাওয়া গেছে, তা-ই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান যদি চাল কম দিয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে কথা বলব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম (পল্টু) ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সিরাজুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

সরকারি বরাদ্দের চাল প্রকৃত জেলেদের মধ্যে সঠিক পরিমাণে বিতরণ হচ্ছে কি না এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু- তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ