
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুজ্জাহান কনকের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে ‘বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসবো বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের পর এবার ইউএনওর পক্ষে প্রেসক্লাবের পক্ষে একটি দালালি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে এখন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনা ঘটার সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে মিথ্যা বিবৃতিকে একপাক্ষিক ও তথ্য গত ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক সামিউল মনির ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ইউএনও’র অপরাধ আড়াল করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। তাদের এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শ্যামনগরের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম, কালের কণ্ঠের আব্দুল আজিজ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ মিরাজ হোসেন খান এবং দৈনিক গ্রামের কাগজের ইয়াছিন মোড়ল নির্বাহী অফিসারের সামনে উপস্থিত ছিলেন। অন্য কেউ ছিলেন না। বক্তব্য যাচাই না করে কীভাবে প্রকাশিত সংবাদকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনওর কার্যালয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও শ্যামনগরের ১৩টি ইটভাটা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় কোনো ইটভাটার পরিবেশগত বা অবস্থানগত ছাড়পত্র নেই। ছাড়পত্র ছাড়া জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ নেই। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ইটভাটার মাটি বহনকারী ডাম্পার গাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।
অভিযোগের জবাবে ইউএনও বলেন, ইটভাটার তথ্য তাঁর কাছে নেই, এগুলো জেলা প্রশাসক নিয়ন্ত্রণ করেন। অবৈধ ইট ভাটার নিউজে তার বক্তব্য যেন না দেওয়া হয়। বক্তব্য লিখে দিলে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসবো বলেও হুমকি দেন।
এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকরাও হতভম্ব হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, সাংবাদিক বক্তব্য চাইতেই পারেন; তবে তাঁকে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসার মতো কথা কোনো সরকারি কর্মকর্তার বলা উচিত নয়। এ ধরনের আচরণ অনুচিত।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি না তুলে প্রেসক্লাব কেন আগেই সংবাদকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলা হলো এবং সাংবাদিকদের আইনের আওতায় আনার অধিকার কে দিয়েছে জানতে চায় শ্যামনগরের সুশীল সমাজ।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা ও প্রেসক্লাবের বিবৃতির পরস্পরবিরোধী দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। সাংবাদিকদের মতে, কোনো কর্মকর্তার প্রতি আনুগত্য নয়, সত্য উদ্ঘাটন, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
এলাকার উন্নয়নে কাজ করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, সমাজের সমস্যা বলি তুলে ধরা। মর্যাদার রক্ষায় স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সাংবাদিক সংগঠনের প্রধান দায়িত্ব। প্রশাসনের দালালি করা নয়। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।