
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছে ভারত। শুক্রবার নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শাহবাজের বক্তব্যের পর শনিবার ‘রাইট টু রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতের কূটনীতিক পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেন।
গেহলট বলেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে বসবাস করতেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালন করেছে। ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান একাডেমির কাছেই বসবাস করছিলেন।’ শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রায় ২৩ মিনিটের বক্তব্যে শাহবাজ শরিফ ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরেন।
ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, পাকিস্তান দিনে নিরাপত্তা রক্ষার কথা বলে, আর রাতে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের পরিণতি পাকিস্তানকে ভোগ করতে হবে এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে ভারত। গেহলট বলেন, ‘আমরা গত বছর দেখিয়েছি, সন্ত্রাসীদের পালানোর বা লুকানোর কোনো জায়গা থাকবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার আমরা প্রয়োগ করব। আর পাকিস্তানের অব্যাহত সন্ত্রাসবাদের পরিণতি হবে।’
গত বছরের ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে ভারত। ২২ এপ্রিল পাহালগামে হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ উল্লেখ করে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, তিনি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। ভারত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে পাকিস্তান ও দেশটির নীতিকে ‘প্রতিনিধিদের উপস্থাপিত মিথ্যা বক্তব্যের’ পরিবর্তে বাস্তবতার ভিত্তিতে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
গেহলট বলেন, ‘বছরের পর বছর মিথ্যা পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।’ শাহবাজ শরিফ তার বক্তব্যে কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের মতো সংঘাতের পরিস্থিতি যাতে দক্ষিণ এশিয়ায় আর তৈরি না হয়, সে জন্য কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সংগত ও ন্যায্য সমাধান প্রয়োজন।