• আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি: শ্যামনগর ইউএনওর পক্ষে দালালি বিবৃতি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সুধিজনদের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করবো: সাংবাদিক জাহিদ হোসাইন সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনজীবীর বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

তালার একই বিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে

রিপোর্টার: / ১৫৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরমধ্যে ১১ জনের বিয়ে আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে তদন্ত চলাকালে আরো দুই ছাত্রীর বাল্যবিয়ের তথ্য উঠে আসে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ইউএনও কার্যালয়ে তলব করা হয়। সেখানে অভিভাবকরা বাল্যবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে শিক্ষার্থীদের আবার বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাদের বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

জানা গেছে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকা সুলতানা, আশামনি, ঊর্মি, ইতি খাতুন ও সাদিয়া খাতুন এবং দশম শ্রেণির লাবিবা জামান তমা, স্মৃতি সুলতানা, নাসরিন খাতুন, ইতিমনি, মনিরা ইয়াসমিন ও জান্নাতুল ফেরদৌসের বাল্যবিবাহ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকালে আরো দুই ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া যায়।

জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাকিব হোসেন বাবলা বলেন, গত ৩১ আগস্ট তিনি তালার একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন ১১ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, লিখিত অভিযোগের পর বিদ্যালয়টিতে তদন্ত করা হয়। পরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে তারা বাল্যবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেন। অভিভাবকেরা জানান, সাতক্ষীরার বাইরে থেকে একজন হুজুর ডেকে এনে এসব বিয়ে পড়ানো হয়েছে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের স্বীকারোক্তির পর শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তদারকির জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ