• আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি: শ্যামনগর ইউএনওর পক্ষে দালালি বিবৃতি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সুধিজনদের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করবো: সাংবাদিক জাহিদ হোসাইন সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনজীবীর বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

সাতক্ষীরায় কৃষকদল নেতা হাফিজের নেতৃত্বে সাতনদী সম্পাদকের উপর হামলা: ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলা হয়নি

রিপোর্টার: / ১৮৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

#সাতনদীতে সিরিজ প্রতিবেদনের জেরে নাসিরউদ্দীনের মদদে সম্পাদকের উপর হামলা

#জামাই নাসিরউদ্দীন, শ্যালক এড. সালাউদ্দীন লিটন ও মামা হামলাকারী হাফিজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আদর্শ (দাঁতভাঙ্গা) কলেজের শিক্ষক নাসিরউদ্দীন এর বিরুদ্ধে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাতনদী সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুর দুইটায় কৃষকদল নেতা হাফিজের নেতৃত্বে পৌরসভা ভবনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় এজাহার দেওয়ার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও তা রেকর্ড করা হয়নি।

৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর পৌনে ২টার সময় সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান পৌরসভায় যান। গেইট দিয়ে প্রবেশের সময় কৃষকদল নেতা হাফিজের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় হাফিজ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কোন বিতর্কে না জড়িয়ে হাবিবুর রহমান পৌর ভবনে প্রবেশ করে ১১৪ নং রুমে যান। ওই রুম থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। রুমে কর্মরত রায়হান আহম্মেদ এর কাছে হাবিবুর রহমান তার ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্তে পরামর্শ করছিলেন।

এসময় আচমকা হাফিজ সহ ২/৩জন ওই রুমে প্রবেশ করে হাবিবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে তুই আমার বিরুদ্ধে কি বলছিস? এই বলেই হাবিবুর রহমানের উপর হামলে পড়ে হাফিজ ও তার সঙ্গীয়রা। হাবিবুর রহমানের চোখে, মুখে, বুকে, গলায় ও ঘাড়ে চড় কিল, ঘুশি মেরে রক্তাক্ত ফোলা রক্ত জমাট জখম করে। পরে উক্ত রুমের ফ্লোরে ফেলে হাবিবুর রহমানের গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। রুমে থাকা সেবা নিতে আসা ডাক্তার রুমি সহ ২/৩জন এবং রুমে কর্মরত রায়হান আহম্মেদ ও জুলহাজ উদ্দীন সম্পাদক হাবিবুর রহমান কে উদ্ধার করে।

এসময় ৯৯৯ নং ফোন দিয়ে হাবিবুর রহমান পুলিশের সহায়তা চান। অবস্থা বেগতিক দেখে হাফিজ ও তার সঙ্গীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে হাবিবুর রহমান সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। রাত্র ৮টায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সদর থানার ওসি তদন্তের নিকট এজাহার জমা দেন।

এ রিপোর্ট লেখার সময় দীর্ঘ ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও হাবিবুর রহমানের দেওয়া এজাহার থানা পুলিশ রেকর্ড করেন নি। তবে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সোমবার বিকাল ৪ টার সময় হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে জমা দেওয়া এজাহারের বিষয়ে কথা বলেন।

উল্লেখ্য যে, মাস খানেক পূর্বে সম্পাদক হাবিবুর রহমান তার কণিষ্ঠ পুত্রের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সাতক্ষীরা পৌর ভবনে যান। ওই দিনও একই ভাবে হামলাকারী হাফিজ হাবিবুর রহমানের উপর চড়াও হয়। ওই সময় সে হুমকি দিয়ে বলেছিল আমার জামাই নাসিরের বিরুদ্ধে তুই নিউজ করেছিলি। তোকে সাইজ করা হবে। ওই দিন অফিসের সহ বাইরের কিছু সেবা প্রার্থীর প্রতিরোধের মুখে হাফিজ পিছু হটে। ওই দিনও ৯৯৯ নং ফোন করে হাবিবুর রহমান পুলিশের সহায়তা নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য বিগত ২৪ ও ২৫ সালে দাঁতভাঙ্গা কলেজের (বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আদর্শ কলেজ) অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় দৈনিক সাতনদীত পত্রিকায়। কলেজ অধ্যক্ষ জাহিরুল আলম, কলেজ পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়দের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাতনদী পত্রিকায় খবর প্রকাশ পায়।

এসময় অনিয়ম দূর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক নাসিরউদ্দীন। প্রভাষক নাসিরউদ্দীন এর নেতৃত্বে তৎকালীন অধ্যক্ষ জাহিরুল আলমকে সরিয়ে কলেজটিতে অধ্যক্ষ হতে মরিয়া প্রশাভক নাসিরউদ্দীন সাবেক এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও আশরাফুজ্জামান আশু কে ম্যানেজ করেন। এরপর তার নেতৃত্বে কলেজ অধ্যক্ষের রুমে তালা মারা সহ নানাবিধ অপকর্ম শুরু হয়। সাতনদী’র অনুসন্ধ্যানী টীম একাধিক প্রতিবেদনে প্রভাষক নাসিরউদ্দীন এর বিভিন্ন অপকর্ম তুলে ধরেন। ওই সময় নাসিরউদ্দীন তার সাঙ্গ পাঙ্গদের দিয়ে সাতনদী সম্পাদককে খবর প্রকাশ না করার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দেন। কিন্তু সকল প্রকার ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে অনুসন্ধ্যানী টীম ওই সময় খবর প্রকাশ করেছিলেন। এতে প্রভাষক নাসিরউদ্দীন সাতনদী পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

নাসিরউদ্দীন এর মদদে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক হাফিজের নেতৃত্বে সাতনদী পত্রিকার সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী হাফিজ প্রভাষক নাসিরউদ্দীনের দুঃসম্পর্কের মামাশ্বশুর। অপরদিকে জেলা কৃষকদলের আহবায়ক এড. সালাউদ্দীন লিটনের আপন ভগ্নিপতি নাসিরউদ্দীন। হামলাকারী হাফিজ সালাউদ্দীন লিটনের দুঃসম্পর্কের মামা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ