• আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি: শ্যামনগর ইউএনওর পক্ষে দালালি বিবৃতি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সুধিজনদের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করবো: সাংবাদিক জাহিদ হোসাইন সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনজীবীর বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

সাতক্ষীরায় সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ

রিপোর্টার: / ১০২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই সাতক্ষীরায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পক্ষ জমিটি নিজেদের দাবি করলেও সড়ক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছেন, জমিটি মহাসড়কের। সরকারি খাস খতিয়ানের এই জমি কীভাবে ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনের ওই জমিতে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মোসফেকউস সালেহীন ও তাঁর লোকজন পুনরায় পুরো জমিটি ঘিরে ফেলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ১ নং খাস খতিয়ানের বিএস ১৪১০ দাগে ৭ শতকসহ মোট ৬৩ শতক সম্পত্তি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাভুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সুলতানুল ইসলামের পুত্র মোসফেকউস সালেহীন গং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। পরবর্তীতে ওই বিতর্কিত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান কোনো প্রকার সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামজারি (মিউটেশন) মঞ্জুর করেন। বেআইনিভাবে এই সম্পত্তি ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হওয়ায় একদিকে যেমন সরকারের বিপুল টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁরা ১৩৩৪ নম্বর দলিলের বুনিয়াদে জমিটির মিউটেশন সম্পন্ন করেছেন। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের দাবিকৃত ১৩৩৪ নম্বর দলিলটি ২০২৩ সালে সম্পাদিত হয়, যার গ্রহীতা লাবসা ইউনিয়নের কামরুন নাহার এবং দাতা আখড়াখোলার তবিবুর রহমান। ওই দলিলের মূল দাগ ও খতিয়ান নম্বরের সাথে অভিযুক্তদের দাবিকৃত জমির দাগ-খতিয়ানের কোনো মিল বা দূরতম সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, বিতর্কিত এই জমিটি মূলত খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অংশ। জমিটি সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এল এ ৫৪/৫৫ নম্বর কেস মূলে অধিগ্রহণ সূত্রে এবং সড়ক ও জনপদের নকশা অনুযায়ী হাল জরিপে ১৪১০ দাগটি খাস ভুক্ত। ফলে মোসফেকউস সালেহীন গং-এর পক্ষে হওয়া নামজারি খতিয়ানটি (নম্বর: ২০২৬-১-০০০-৩৩) বাতিল করে জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ান হতে সড়ক ও জনপদের পক্ষে রেকর্ড সংশোধন করার জন্য ইতোমধ্যে লিখিতভাবে আদেশ ও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং সড়ক বিভাগের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই প্রকাশ্য জমি দখলের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ