• আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি: শ্যামনগর ইউএনওর পক্ষে দালালি বিবৃতি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সুধিজনদের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করবো: সাংবাদিক জাহিদ হোসাইন সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনজীবীর বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

সাতক্ষীরার ধুলিহরে জমি নিয়ে বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ: নারীকে হত্যার হুমকি

রিপোর্টার: / ১৩৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বড়দল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কেটে ক্ষতিসাধন এবং এক নারীকে মারধর করে গলায় দা ধরে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. জামসেদ (৪৮) সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. ইকবাল হোসেন। তাঁর দাবি, জমির সীমানা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে তাঁকে চড় মারা হলে তিনি হাতে থাকা দা উঁচু করেন।
‎
‎থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বড়দল গ্রামের মৃত কাশেমের ছেলে মো. জামসেদ বলেন, বড়দল এলাকায় তাঁর প্রায় ১৫ কাঠা ভিটাবাড়ির জমি রয়েছে। ওই জমি নিয়ে একই এলাকার মো. সিদ্দিক (৬০), তাঁর ছেলে মো. ইকবাল হোসেন (৩০) ও স্ত্রী সেলিনা খাতুনের (৫০) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
‎

‎জামসেদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁর জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছেন। জমির গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধনেরও অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে সিদ্দিক, ইকবাল ও সেলিনা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামসেদের ভিটাবাড়ির জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন জামসেদ। এতে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
‎

‎এ ছাড়া অভিযুক্তদের বাড়ির বাথরুমের নোংরা পানি তাঁর বাড়ির জায়গায় প্রবেশ করায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জামসেদ।
‎

‎অভিযোগে জামসেদ বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে তাঁর স্ত্রী খালেদা খাতুন বাড়িতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা সেখানে যান। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং অভিযুক্ত মো. ইকবাল হোসেন তাঁর গলায় দা ধরে হত্যার হুমকি দেন।
‎
‎খালেদার চিৎকারে আয়শা খাতুন, শহিদা খাতুনসহ স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে খালেদা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন বলে জানান জামসেদ।
‎
‎অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ইকবাল হোসেন বলেন, তিনি জামসেদের জমি দখল করতে যাননি। নিজের জমির সীমানা দেখতে এবং কঞ্চি কাটতে সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁদের সীমানার পাশে একটি আমগাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন।
‎
‎ইকবালের দাবি, গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে তিনি পাশের বাড়ির লোকজনকে ডাকলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
‎
‎ একপর্যায়ে তাঁকে চড় মারা হলে উত্তেজিত হয়ে তিনি হাতে থাকা দা উঁচু করেন। তবে কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি দা ধরেননি এবং খালেদা খাতুনের গলায় দা ধরে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
‎
‎গাছ কাটার বিষয়ে ইকবাল বলেন, তাঁদের পক্ষ থেকেও কিছু গাছ বা ডালপালা কাটা হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, সেগুলো তাঁদের নিজস্ব জায়গা বা সীমানার মধ্যে ছিল। কোন গাছ কার জমিতে রয়েছে, তা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
‎
‎বাথরুমের নোংরা পানি নিয়ে জামসেদের অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল বলেন, পায়খানার ঘর ও জমির মাটি নিয়ে বিরোধের কারণে পানি যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে জামসেদের বাড়ির দিকে নোংরা পানি দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
‎
‎শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা হলে ইকবাল এসব বক্তব্য দেন।
‎
‎এদিকে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগটি তদন্তের জন্য আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
‎
‎পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির মালিকানা, গাছ কাটার ঘটনা এবং নারীকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ