
নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় নারীদের কণ্ঠ নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী নানা আয়োজন সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রেরণার উদ্যোগে এবং প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় রবিবার সকালে (৮মার্চ) সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার গল্প তরীর সুন্দরবন মিউজিয়ামে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
উপকূলের নারীরা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। কিন্তু তাদের সেই সংগ্রামের কথা অনেক সময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছায় না। এবারের নারী দিবসে সেই বাস্তবতা তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয় ভিন্নধর্মী এই কর্মসূচির। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ : সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য।
দিবসটি উপলক্ষে গল্প তরী প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে স্থানীয় নারী-পুরুষ, মুন্ডা আদিবাসী সম্প্রদায়, তরুণ-তরুণী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে নারীর অধিকার, সমতা, মর্যাদা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বার্তাবাহী পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। র্যালি শেষে সাংস্কৃতিক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলের নারীদের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়। মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, সুন্দরবননির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত বাওয়ালি ও মৌয়ালদের অভিজ্ঞতা, দিনমজুর, কিশোর-কিশোরী ও ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে উঠে আসে উপকূলীয় নারীদের বাস্তবতা ও অধিকারবঞ্চনার চিত্র।
পরে স্থানীয় কমিউনিটি ও যুব সংগঠন সিওয়াইডির উদ্যোগে একটি রাউন্ডটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, ইউপি সদস্যাবৃন্দ এবং প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় নারীদের জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
বক্তারা এসময় বলেন, কেবল দিবস উদযাপন নয়, উপকূলের নারীদের কণ্ঠ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানো এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই আয়োজনের মাধ্যমে উপকূলের নারীদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা সমাজের বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।