• আজ- বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরায় বলাই সিন্ডিকেটের স্বর্ণপাচার ও হুন্ডি ব্যবসা রমরমা ভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী ও ব্লাকমেইল, দেবহাটার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেফতার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ থেকে বিএনপি-যুবদল নেতাদের বালু লুট কালিগঞ্জে এসআরবির অভিযানে উইনকেরেক্সসহ আটক- ২ কলারোয়ায় ৬৫লাখ টাকার পাট পুড়ে ছাই পায়ু পথে দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের বার: ভারতীয় নাগরিক আটক কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক শ্যামনগরে দ্রুতগতির বাসের চাপায় প্রাণ গেল ইজিবাইক চালকের বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাঁধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা সাতক্ষীরার নায়েব আশরাফুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের পাহাড়, দুদকে অভিযোগ

সাতক্ষীরায় বলাই সিন্ডিকেটের স্বর্ণপাচার ও হুন্ডি ব্যবসা রমরমা

রিপোর্টার: / ১২৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

# স্বর্ণপাচারে আটক হয় পাচিংম্যান, মালিকরা থাকে অধরা

 

#এপারে-ওপারে সম্পদ গড়েছে বলাই দে

 

# শহরের নাজমুল স্বরনীতে বলাইদে,র৫ তলা আলিশান মার্কেট, পুরাতন সাতক্ষীরায় মার্কেট, মুন্সিপাড়ায় ৪ তলা আলীশান বাড়ী।

 

বিশেষ প্রতিবেদক: স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণপাচার সহ হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলাই সিন্ডিকেট। ঘাটে-ঘাটে অর্থকড়ি খরচ করে বছরের পর বছর অবৈধ এ ব্যবসা চালিয়ে প্রাসাদোপম মার্কেট ও বাড়ী সহ ওপারে গড়েছে অট্টালিকা। কারিগর থেকে নিউ দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্স এর মালিক বনে যাওয়া বলাই সিন্ডিকেট্রে অবৈধ ব্যবসার অন্তরালে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।

অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ফরিদপুর থেকে ৯৫ সালে শহরের পাকাপুল সড়কের ঐতিহ্যবাহী দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্স এর কারিগর হিসেবে যোগ দেন বলাই। দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্স এর মালিক দুলাল চন্দ্র দে’র নিকট থেকে দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্স কিনে নেয় ফরিদপুরের বলাই। নাম পাল্টে রাখা হয় নিউ দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্স। এরপর বলাইকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে নাজমুল স্বরণীতে অত্যাধুনিক ৫তলা মার্কেট। মুন্সিপাড়ায় প্রাসাদোসম ৪তলা বাড়ী, পুরাতন সাতক্ষীরায় জমি সহ মার্কেট এর মালিক বনে গেছে এককালের স্বর্ণের কারিগর বলাই দে। এছাড়াও ভারতের পারে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে বাড়ী-গাড়ী বানিয়েছে বলাই দে। প্রায়ই সময় তাকে ভারতে যেতে দেখা যায়। তার এ অবৈধ স্বর্ণের ও হুন্ডির ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ভারত-বাংলাদেশ করা লাগে।

স্বর্ণপাচার ও হুন্ডির ব্যবসার বলাই দে সিন্ডিকেটের অপর ২ সদস্য হলো সোনারগাঁ জুয়েলার্স’র মত্যুঞ্জয় ও বৈশাখী জুয়েলার্স এর নিত্যানন্দ আমিন।

প্রতিদিনই নিউ দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্সের বলাই দে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ওপারে পাঠায়। মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য ও নিত্যানন্দ আমিন জেলা জুড়ে জাল পেতেছে ভারতে টাকা পাচার করার জন্য। এতে তারা কমিশন পায়, বলাই দে’র নিকট থেকে। যারা জমি জমা বিক্রি করে ভারতে পাড়ি জমায় তারা অধিকাংশই বলাই সিন্ডিকেটের স্মরণাপন্ন হয়। সব পর্যায় থেকে টাকা কালেকশন করে মৃত্যুঞ্জন আঢ্য ও নিত্যানন্দ আমিন। পরে তারা বলাই দের কাছে যায় টাকার বস্তা নিয়ে। বলাই দে তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পৌছে দেয়। বিনিময়ে মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য ও নিত্যানন্দ আমিন নির্দিষ্ট অংশের কমিশন পায়। ভারতে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে বলাই দে শহরের একাধিক ব্যাংক ব্যবহার করে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য্য বলাইদের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার কর্মচারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি বাইরে আছেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রের দাবী তিনি দূর্গাপুজার পরপরই ভারত গমণ করেছেন। দ্বিতীয় দফায় নিউ দে ব্রাদার্স এন্ড জুয়েলার্স -এ গিয়ে কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ করে বলা হয় খবর সংক্রান্ত বিষয়ে বলাই দে’র সাথে জরুরী কথা বলা প্রয়োজন। চাওয়া হয় তাদের সহযোগিতা। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করেও তাদের কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

বৈশাখী জুয়েলার্সের মালিক নিত্যানন্দ আমিন এই প্রতিবেদককে জানান, হুন্ডিসহ কোন অবৈধ ব্যবসায় তিনি জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন।

সোনারগাঁ জুয়েলার্স এর স্বত্ত্বাধীকারী মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে বলেন, কোন অবৈধ ব্যবসার সাথে তিনি জড়িত নন। তিনি যোগ করে বলেন, কারা হুন্ডির ব্যবসা-স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যবসা করে সবই আপনারা জানেন। নতুন দোকান করার ফলে তার ব্যবসা ভালো যাচ্ছে। এতে করে কিছু মানুষ শত্রুতা বশত এসব ছড়াতে পারে। তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

হুন্ডি ও স্বর্ণপাচারের ক্ষেত্রে বলাই সিন্ডিকেটের যত সব নেটওয়ার্ক: প্রাইভেট, পরিবহন, ট্রাক সহ একাধিক কুরিয়ারের মাধ্যমে বলাই সিন্ডিকেটের স্বর্ণের বার ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা সীমান্তে আসে। সেখান থেকে বলাই সিন্ডিকেটের পাচিং ম্যানরা স্বর্ণের বার বহন করে সীমান্ত নদী/খাল পার হয়ে ওপারে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌছে দেয়। প্রায়শই স্বর্ণের বার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও আটক হয় পাচিং ম্যানরা। মালিকরা থেকে যায় অধরা।

স্বর্ণ পাচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্তা ব্যক্তিরা মাসোয়ারা নিয়ে থাকে। ফলে বলাই সিন্ডিকেটেরা থেকে যায় অধরা। পরবর্তী প্রতিবেদন থাকবে বলাই সিন্ডিকেটের স্বর্ণ পাচার-সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। (চলবে…)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ