• আজ- রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর পিতার মৃত্যু খোলপেটুয়া নদী গিলে খাচ্ছে হাবিবুল্লাহ সিন্ডিকেট: প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক সাতক্ষীরায় বলাই সিন্ডিকেটের স্বর্ণপাচার ও হুন্ডি ব্যবসা রমরমা ভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী ও ব্লাকমেইল, দেবহাটার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেফতার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ থেকে বিএনপি-যুবদল নেতাদের বালু লুট কালিগঞ্জে এসআরবির অভিযানে উইনকেরেক্সসহ আটক- ২ কলারোয়ায় ৬৫লাখ টাকার পাট পুড়ে ছাই পায়ু পথে দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের বার: ভারতীয় নাগরিক আটক কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক শ্যামনগরে দ্রুতগতির বাসের চাপায় প্রাণ গেল ইজিবাইক চালকের

খোলপেটুয়া নদী গিলে খাচ্ছে হাবিবুল্লাহ সিন্ডিকেট: প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক

রিপোর্টার: / ৬২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

হাবিবুর রহমান, শ্যামনগর থেকে ফিরে: শ্যামনগর উপকূলীয় খরস্রোতা খোলপেটুয়া নদীর ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে। সরকারের বালু মহাল ঘোষণা না থাকার পরেও বিএনপি দলীয় হাবিবুল্লাহ সিন্ডিকেট চক্র নদীর তলদেশ হতে রাতের আঁধারে জোয়ারের সময় বড় বড় কার্গো ড্রেজার দিয়ে বালু লুট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে মারাত্মক হুমকিতে পাউবোর উপকূল রক্ষা বাঁধ। ধ্বংসের পথে বিস্তীর্ণ উপকূলীয় জনপদ। প্রশাসনের রহস্যময় ভূমিকার কারণে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক হাবিবুল্লাহ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে প্রতিরাতে খোলপেটুয়া নদীর তলদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু উঠিয়ে নোয়াবেগি বাজার সংলগ্ন জামানের ইট ভাটার পাশে পাহাড়ের মত স্তুপ করে রেখেছে। ফলে নদী গতিপথ হারিয়ে যেকোনো মুহূর্তে উপকূলীয় বেড়িবাধ ভেঙে বিস্তূর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচুত হতে পারে। প্রশাসন এ ব্যর্থতার দায়ভার এড়াতে পারে না।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় সরকার ১৪৩০ সাল হতে তিন বছরের জন্য বালু মহালের ইজারা প্রদান করেন। কিন্তু নদী থেকে বালু উত্তোলন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই লিজ বাতিল করে। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় হাবিবুল্লাহ দলীয় শক্তিকে ব্যবহার করে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

সরোজমিনে দেখা যায়, হাবিবুল্লাহ, মনির, মামুন ও তাদের সিন্ডিকেট চক্র দেদারছে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ করা হয়েছে। কিন্তু নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের পক্ষে কেউ এগিয়ে আসেনি বরং উপজেলার প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হাবিবুল্লাহ ও তার সিন্ডিকেট চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাধ ক্ষতিগ্রস্ত সহ সার্বিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে। সরকার প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাধ মেরামতের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছে।

 

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করা সত্বে জানান, প্রতি বর্গফুট বালু আড়াই টাকা খরচ করে উত্তোলন করে এবং বিক্রি করছে ৭ টাকা দরে। এভাবে প্রতিরাতে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চুক্তি প্রদান করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এলাকাবাসী তদন্ত-পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এব্যাপারে সাতক্ষীরা-৪ আসনে নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ড. মনিরুজ্জামান অকপটে বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে বলেন, এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করে চলেছি। আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরা আসলে আমি দুটি বিষয়ে কথা বলেছিলাম। একটি হল, বালু উত্তোলনে অনিয়ম, দ্বিতীয়টি হল সুন্দরবনে জলদস্যুর তৎপরতা বৃদ্ধি। দলের কতিপয় ব্যক্তি প্রশাসনের সাথে যোগসাজস করে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের অলিখিত অনুমতি আছে। এই অঞ্চলে বালুমহল টেন্ডার হতো। সরকার কোটি টাকার উপর রাজস্ব পেতো। টেন্ডার বন্ধ করা হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকান্ডের অজুহাত তুলে প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে অনাগ্রহী। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেও কোন প্রতিকার মিলছে না। চলবে……


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ